Logo

শেরপুর-সিলেট মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বাহুবল, হবিগঞ্জ
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৮
শেরপুর-সিলেট মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর থেকে সিলেট অংশ বর্তমানে ভয়াবহ দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, টানা বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা এবং চার লেন প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি মহাসড়কের শেরপুর-সিলেট অংশ ঘুরে দেখা যায়, একাধিক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহন চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও একাধিক লেন বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং পণ্যবাহী ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির অভিযোগও উঠেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিটি বৃষ্টির পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। তাদের মতে, শুধু অস্থায়ী মেরামত নয়, টেকসই সংস্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে একই সমস্যা বারবার ফিরে আসবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত অর্থনৈতিক করিডোর। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। ফলে এই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলে শুধু যাত্রীসাধারণ নয়, বাণিজ্য, পর্যটন ও জাতীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান চার লেন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী সংস্কার, উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নির্মাণাধীন এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ চিহ্ন, রাতের আলোর ব্যবস্থা এবং বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী যাত্রী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জরুরি ভিত্তিতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার এবং চার লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD