Logo

শতভাগ জিপিএ-৫, দেশসেরা নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নরসিংদী
১০ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:১০
শতভাগ জিপিএ-৫, দেশসেরা নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল
ছবি: প্রতিনিধি

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এ বছর বিদ্যালয়টির ৩৮২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই সঙ্গে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় অনলাইনে এসএসসির ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিষ্ঠানটির এমন সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও নাছিমা মোল্লা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পাওয়ায় শতভাগ জিপিএ-৫-এর অনন্য ফল অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে ২০২২, ২০১৭, ২০১৫ ও ২০২৫ সালেও শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের কৃতিত্ব অর্জন করেছিল বিদ্যালয়টি।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে আসছে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতিবছরই বোর্ড পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়টির ফলাফলের পরিসংখ্যানেও রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র। গত বছর ৩২০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন এবং ২০২২ সালে ২৬৬ জনের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২১ সালে ২৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন এবং ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মুশফিকুর হাসান সিয়াম ও শাহজাদি সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশের নানা প্রতিকূলতার কারণে পড়ালেখায় অনেক ব্যাঘাত ঘটেছিল। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে আমরা সেই ঘাটতি পূরণ করতে পেরেছি। আজকের দেশসেরা ফলাফলে আমাদের সব দুঃখ-কষ্ট মুছে গেছে।’

বিজ্ঞান বিভাগের আরেক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এমন ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফল করছে। এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। সারা দেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি, আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাছিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত হোক, যাতে সমাজে শুধু সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।’

আবদুল কাদির মোল্লা আরও বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ—পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ হলো, আমরা একে অপরের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূলমন্ত্র হচ্ছে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা স্যারের উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনা ও সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা। এর ফলেই আমাদের এই সাফল্য অব্যাহত রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এত কঠোর পরিশ্রম করেন যে ভালো ফল করা যেন অবশ্যম্ভাবী। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও দেশসেরার সুফল অর্জন করে আসছি।’

নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা তাঁর ও স্ত্রী নাছিমা বেগমের নামে যৌথভাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমানে ১৭৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD