আমতলীতে মহাসড়কের খানাখন্দে ৫ মিনিটের পথ যেতে লাগে ২ ঘণ্টা

দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। অথচ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আমতলী এলাকায় মহাসড়কের মাত্র আধা কিলোমিটার অংশের বেহাল দশায় প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
বিজ্ঞাপন
খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে ধীরগতিতে যান চলাচল করায় মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও পথচারীরা।
পরিবহন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বর্ষণে মহাসড়কের আমতলী এলাকার একটি অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে ভারী যানবাহনও বাধ্য হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে। ফলে সামান্য এই অংশ পার হতে দীর্ঘ সময় লাগছে এবং এর প্রভাব পড়ছে মহাসড়কের উভয় পাশে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইট ফেলে গর্ত ভরাট করে বারবার সাময়িক সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি ভারী যানবাহন চলাচল করলেই সেই সংস্কার নষ্ট হয়ে গর্তগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগেরও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যানজটে আটকা পড়া একাধিক পরিবহন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করি। আমতলীর এই সামান্য অংশে বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চালানো যায় না। পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে কখনো কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এতে সময় ও জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
বিজ্ঞাপন
চালকদের ভাষ্য, গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়। একটি গাড়ির পেছনে আরেকটি গাড়ি আটকে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
পণ্যবাহী পরিবহনের চালকরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, আমতলী এলাকায় প্রতিদিন যানজটে আটকে থাকায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কের মাত্র আধা কিলোমিটার অংশের কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
তাঁদের দাবি, সাময়িকভাবে ইট ফেলে গর্ত ভরাট করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে টেকসই ও মানসম্মত সংস্কার করতে হবে।
ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আমতলী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। নিত্যদিনের যানজট ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।
বিষয়টি জানতে চাইলে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমতলী এলাকায় গত তিন মাস ধরে সংস্কারকাজ চলছে। এই সংস্কার টেকসই এবং স্থায়ী না হওয়ায় সড়কটি বারবার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সংস্কার শুরু হয়নি।’
এ বিষয়ে সওজ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী অংশে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে সংস্কারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। রোদ উঠলেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে দ্রুত টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে আমতলী এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত হবে।








