মহিষ চরাতে গিয়েও দিতে হচ্ছে চাঁদা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় খাসজমিতে মহিষ চরাতে প্রতিটি মহিষের জন্য ২০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের দাবি, সাবেক এক ছাত্রদল নেতা মাঈনউদ্দিন এ টাকা দাবি করছেন। নির্ধারিত অর্থ না দিলে লালচরের খাসজমিতে মহিষ চরাতে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লালচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে খাসজমির ঘাসের ওপর নির্ভর করে মহিষ পালন করে আসছেন অনেকে। চরাঞ্চলের এসব জমি স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি মহিষ চরানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় মহিষ পালনকারী রেজাউল খা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা লালচরের খাসজমিতে মহিষ চরিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মাঈনউদ্দিন প্রতিটি মহিষের জন্য ২০০ টাকা করে দাবি করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তার অভিযোগ, টাকা না দিলে ওই এলাকায় মহিষ চরাতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয় মহিষ পালনকারীরা দাবিকৃত অর্থ দেন।
বিজ্ঞাপন
রেজাউল খার দাবি, এভাবে মোট ৪৭৮টি মহিষের বিপরীতে টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে মহিষ পালনকারীদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আরেক মহিষ পালনকারী ইদ্রিস দালাল বলেন, চরাঞ্চলের খাসজমিতে থাকা ঘাসের ওপর নির্ভর করেই এলাকার অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মহিষ পালন করছে। মহিষ চরানোর জন্য যদি নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তাহলে তাদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এতে মহিষ পালন করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় মহিষ পালনকারীরা বলছেন, চরাঞ্চলে মহিষ পালন তাদের অনেক পরিবারের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চারণভূমি ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে তাদের আয়ের ওপর।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে মাঈনউদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি হাসপাতালে রোগী দেখতে অবস্থান করছেন। বক্তব্য প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে কথা বলার জন্য বলেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে অভিযোগটি যাচাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংবাদ প্রকাশের কথাও জানান মাঈনউদ্দিন।
বিষয়টি নিয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন প্রশ্ন উঠেছে, খাসজমিতে মহিষ চরানোর জন্য আদৌ কোনো অর্থ নেওয়ার বৈধতা রয়েছে কি না এবং অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত। পুলিশ তদন্ত করলে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








