Logo

শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ, জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ১ লাখ টাকায় আপোষ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
জাজিরা, শরীয়তপুর
১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:১৮
শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ, জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ১ লাখ টাকায় আপোষ
অভিযুক্ত ইলিয়াস। ফাইল ছবি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সামচু খানের ছেলে ইলিয়াস খান (৫০)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়নগর আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শিশুটিকে বলৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ইলিয়াস খানের নাম উঠে আসে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম ও স্থানীয় মান্নান শিকদারের নেতৃত্বে গোপনে একাধিকবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবার সঙ্গে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর বাবা কয়েকটি শর্ত দেওয়ায় বিষয়টি মীমাংসায় বারবার সময় বাড়ানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সবশেষ গত বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম, মান্নান শিকদারসহ স্থানীয় কয়েকজন সালিশকারী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আপোষের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। প্রথমে আমি আপসের শর্তে রাজি হইনি। আমি বলেছি, আমি বিচার চাই। কেমন বিচার চাই—স্থানীয় সালিশরা জানতে চাইলে আমি তাদের কয়েকটি অপশন দিই। এর মধ্যে হয় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, নয়তো তার স্ত্রীর সঙ্গে আমাকে যৌন সম্পর্ক করতে দিতে হবে। এসব শর্ত না মানলে তার গোপনাঙ্গ কেটে গলায় জুতার মালা দিয়ে এলাকায় ঘুরাব—এমন কথাও বলেছি।”

তিনি আরও বলেন, “পরে স্থানীয় সালিশরা আমাকে এক লাখ টাকা দিয়ে মামলা করব না—এই শর্তে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেয়। আমি এই বিচার মানতে চাইনি। পরে আমার এক চাচা মান্নান শিকদার টাকা নিয়ে আমাকে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি স্বাক্ষর করে দিই।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে বলৎকারের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীর বাবার দেওয়া বিভিন্ন শর্তের কারণে আপস-মীমাংসা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অনেকে এমন গুরুতর অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে মীমাংসার উদ্যোগের সমালোচনা করে অভিযুক্তের আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে আপস-মীমাংসার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম বলেন, “আমি তো এখানে একা ছিলাম না। আরও অনেকেই ছিল। ইলিয়াস খান সম্মানিত ব্যক্তি। বিষয়টি সমাধানে এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।”

তবে এক লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সালিশকারী মান্নান শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, “আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আসেননি। তিনি কেন মিথ্যা বলেছেন, আমি জানি না। তবে ফেসবুকসহ কয়েকজনের কাছ থেকে শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD