কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার মান দেখতে হাসপাতালে এমপি আবুল কালাম

উপকূলীয় জনপদের মানুষের চিকিৎসাসেবার মান সরেজমিনে দেখতে খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি কয়রার একমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরিদর্শনকালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আইপিএস ব্যবস্থা চালু, অকেজো ডায়াগনস্টিক সেবা সচল এবং জরাজীর্ণ যাতায়াত সড়ক দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে পুরুষ ওয়ার্ড, প্রসূতি বিভাগ ও বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন এমপি। চিকিৎসাধীন ৬৭ বছর বয়সী রহিমা বেগম হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য চিকিৎসক ও জনবল সংকট, এক্স-রে মেশিন বিকল থাকা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তদারকিকালে জানা যায়, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট তিনতলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদ ছিল নয় মাস। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গর্ত খনন ও কয়েকটি পিলার স্থাপনের পর প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্সের মালিকের দাবি, তৎকালীন সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবুর সময় কাজটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি সামনে আসায় বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর দায় পড়েছে।
পরিদর্শন শেষে এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত আইপিএস চালু, বন্ধ থাকা ভবনের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু, নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং হাসপাতালের যাতায়াত সড়ক সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে তিনি কয়রা মদিনাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ ও শাকবাড়ীয়া স্কুল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনিক সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচিত এমপির এলাকায় জেলা প্রশাসক হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। কিন্তু কয়রায় এর ব্যতিক্রম ঘটছে। তিনি আশা করেন, বিরোধিতার পরিবর্তে এলাকার উন্নয়নে সবাই সহযোগিতা করবেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়নের ১০০ ডিও লিটার বরাদ্দ থেকে মদিনাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের মাঠ ভরাটের ঘোষণা দেন।
পরিদর্শনকালে কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, ঘুগরাকাটি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সুজাউদ্দিন, সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ আজাদ, ১ নম্বর আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








