ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শীর্ষ পদে আলোচনায় মেহেদী হাসান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কিশোরগঞ্জের মেহেদী হাসান হিমেল।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির আনুষ্ঠানিক বিদায়পর্ব সম্পন্ন হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে জবি ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে ঐতিহ্যগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের প্রাধান্য দেখা যায়। এবার আন্দোলন-সংগ্রামে জবি ছাত্রদলের ভূমিকা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় শীর্ষ দুই পদের অন্তত একটি পদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান হিমেল এবং সদস্যসচিব হিসেবে শামসুল আরেফিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে হিমেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মেহেদী হাসান হিমেল ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এর বাইরে তিনি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং নিকলী সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
হিমেলের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাজপথের কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান।
দলীয় সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের আমলে হিমেল একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের অভিযানের সময় আহত হন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে ঘনিষ্ঠরা জানান।
নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে হিমেলের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে গণমাধ্যমের সামনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আলোচনায় থাকা আরেক নেতা শামসুল আরেফিন বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সখিপুর পৌর ছাত্রদলের ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
শামসুল আরেফিনের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক বক্তব্য ও দলীয় ন্যারেটিভ তৈরিতে তার দক্ষতা রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন, জকসুর কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তারা জানান।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালের ধারাবাহিক আন্দোলন, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও শামসুল আরেফিন সক্রিয় ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ‘সুপার ফাইভ’-এ দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন শামসুল আরেফিন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সুযোগ পেলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আসছেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার জন্য।








