কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় মেগা প্রকল্প, বদলে যাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চার লেনের আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণসহ ব্রহ্মপুত্র নদে একাধিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন ও ডিও লেটার দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিগত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকুন্দিয়া থানাঘাট হয়ে টোক, কাপাসিয়া এবং রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব টিনা পাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
পাকুন্দিয়ার মুনিয়াকান্দি বাজার থেকে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার দপ্তরের বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ‘জোড়া সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা নদীর ওপর আরও দুটি পৃথক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চরপুক্ষিয়া থেকে চর গোয়ালবাড়িয়া এবং বৈরাগীরচর থেকে মনতলা পর্যন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব প্রকল্পের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকার সরেজমিনে প্রাথমিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যোগাযোগ ব্যবস্থার এ পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহায়তায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়াবাসীর কাঙ্ক্ষিত সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার শতভাগ দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ বিভাগের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।








