লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা মামলায় বিধানের মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের আলোচিত শিশু নন্দিনী রায় হত্যা মামলায় বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রায়ের কপি অনুযায়ী, মামলার এক নম্বর আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় বিধান চন্দ্রকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার অপর দুই আসামি বিধান চন্দ্রের বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও মা মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রায়ের কপিতে বলা হয়েছে, মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তকালে আসামি বিধান চন্দ্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেখানো ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশু নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলাটিতে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। এরপর ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট আদালতে মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
২০ আগস্ট আসামিদের পরীক্ষা এবং উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। পরে ২৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া মামলায় জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত শিশু নন্দিনীর পরিবার। তারা দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।








