গরমে বাড়ছে আনারসের চাহিদা, ভ্যানগাড়িতে ঘুরে বিক্রি

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরের মধুখালীতে বেড়েছে রসালো ফল আনারসের চাহিদা। বাজারে নানা জাত ও আকারের আনারস উঠতে শুরু করায় ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। টক-মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি রসালো হওয়ায় গরমে ক্লান্তি দূর করতে অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই ফল।
বিজ্ঞাপন
মধুখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আখচাষী কল্যাণ ভবনের সামনে তিনটি স্থানে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি ভ্যানগাড়িতে বিভিন্ন জাতের আনারস সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এসব ভ্যানগাড়ি থেকে ফল বিক্রি করছেন স্থানীয় বিক্রেতারা। পরে ভ্যানযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরেও আনারস বিক্রি করা হচ্ছে।
বাজারে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন জাতের আনারস পাওয়া যাচ্ছে। বেশিরভাগ ফল দেখতে পাকা ও লালচে রঙের। পাশাপাশি রয়েছে আকর্ষণীয় মিষ্টি ঘ্রাণ। বিক্রেতাদের দাবি, মৌসুম থাকায় বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আনারস পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, সাধারণত মে থেকে জুলাই মাসকে আনারসের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ আনারস বাজারে আসে। মধুখালী বাজারে বর্তমানে আসা আনারসের বড় অংশই টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে আসছে। পাশাপাশি গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকেও কিছু আনারস বাজারে সরবরাহ হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বাজারে আনারসের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে মূলত আকার ও জাতের ওপর ভিত্তি করে। খুচরা বিক্রেতারা জোড়া এবং একক—দুইভাবেই আনারস বিক্রি করছেন।
বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের মধুপুরের আনারস জোড়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা এবং প্রতিটি ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও ছোট আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে।
দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় বাজারে আনারসের বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে গরমের সময়ে রসালো ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় বিক্রি আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
গোয়েন্দারদিয়া গ্রামের ভ্যানগাড়িতে করে ফল বিক্রি করেন মো. সবুজ বিশ্বাস। তিনি বলেন, গরমের সময় রসালো ফলের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। এবার আনারসের মৌসুম এবং ফলের স্বাদ ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোটামুটি ভালো বিক্রি হচ্ছে।
তিনি জানান, ভ্যানগাড়িতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আনারস বিক্রি করায় স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে সহজেই পৌঁছানো যাচ্ছে। বাজারে আসার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় গিয়েও অনেক আনারস বিক্রি হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা আকুব্বর খন্দকার বলেন, ভ্যানগাড়িতে ফল বিক্রি করলেও এতে বাড়তি পরিশ্রম রয়েছে। বিশেষ করে ‘জলডুবি’ জাতের আনারস মিষ্টি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কেটে খাওয়ার জন্য কিনছেন। কেউ কেউ আনারসের সঙ্গে লবণ কিংবা কাসুন্দি মিশিয়ে দিতে বলছেন। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তাঁরা এসবের ব্যবস্থাও রাখছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে আনারসের বিক্রি বেশ ভালো। গরমের কারণে মানুষ রসালো ফল বেশি কিনছেন। পাশাপাশি এবারের আনারসের স্বাদ ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।
বাজারে আনারস কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, গরমে ঠান্ডা ও রসালো ফল খেতে ভালো লাগে। আনারসের স্বাদ যেমন সুস্বাদু, তেমনি পরিবারের সদস্যদের জন্য সহজেই পরিমাণ অনুযায়ী কেনা যায়। আকারভেদে দামও বিভিন্ন হওয়ায় সাধ্যের মধ্যে আনারস কেনার সুযোগ রয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আনারসের সরবরাহ ও চাহিদা ভালো থাকবে বলে তাঁরা আশা করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনে আরও বেশি আনারস বাজারে আসতে পারে এবং বিক্রিও বাড়তে পারে।








