Logo

গণধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, বাদীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৫০
গণধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, বাদীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে দায়ের করা একটি গণধর্ষণ মামলা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলার বাদীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনসহ অন্যান্য আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল এলাকার বাসিন্দা জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মোকছেদুল ইসলাম (৩২), সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও খয়রুল ইসলাম (৪২)সহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে সদর উপজেলার তিন মাইল এলাকায় তাঁকে অটোরিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে তাঁর দুই বছরের শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয় এবং আসামিরা তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও বলা হয়, পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে। এরপর তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের তদন্তে এজাহারে করা অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ওই নমুনায় পাওয়া বীর্যের ডিএনএ প্রোফাইল মামলায় অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির ডিএনএর সঙ্গে মেলেনি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নমুনা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইল জগদল এলাকার আইবুল হক নামে এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলে যায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারী নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। তদন্তে তাঁদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এবং অন্যান্য নথি ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেন আদালত। বিচারিক বিশ্লেষণ শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা গণধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে আদালত তাঁদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে আদালত মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথক মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলায় অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা। তাঁদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের কথিত সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় সমালোচনা করায় তাঁদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণের মামলা করা হয়েছিল। তবে তাঁদের এ দাবির বিষয়ে অভিযোগকারী নারীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার নথিপত্র, পুলিশের প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। বিচারিক বিশ্লেষণের পর আদালত যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা আইন অনুযায়ী হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অপরাধের পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা রোধের ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিচারিক সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, মামলায় ধর্ষণের যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সাজানো ছিল এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD