Logo

রংপুরের চার হত্যা: ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলল নতুন তথ্য

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রংপুর
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৪৬
রংপুরের চার হত্যা: ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলল নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় প্রাথমিক ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার পেছনে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় চার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চারটি মরদেহ থেকেই প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া সম্ভব হবে।

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত মিলেছে। মরদেহের মুখমণ্ডলে যে বিকৃতি দেখা গেছে, সেটি পচনের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে অ্যাসিড কিংবা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ ছাড়া নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙার কোনো আলামতও ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানান ফরেনসিক বিভাগের এই কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রবিবার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও পুলিশের তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

পুলিশের ভাষ্যে হত্যাকাণ্ডের কারণ

পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা মাদক সেবন করছিলেন। বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তীর নজরে এলে তিনি ছাদে গিয়ে তাদের বকাঝকা করেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনের বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে ওই দুই যুবক তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে আসেন। সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

এরপর মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘরে থাকা ১২ বছরের আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটি অভিযুক্তদের চিনত এবং ভবিষ্যতে ঘটনা প্রকাশ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য।

বিজ্ঞাপন

হত্যার পরও বাড়িতে ছিল অভিযুক্তরা

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর দুই অভিযুক্ত বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে আবার মাদক সেবন করেন। এরপর তারা বাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার বের করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। সে কারণে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করে তারা স্বর্ণের সত্যতা যাচাই করে নেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের মানুষজন মসজিদে গেলে দুই অভিযুক্ত পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে বেরিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। বের হওয়ার আগে তারা ডাইনিং টেবিলে বসে বয়ামে রাখা খেজুর খায়। মাদকের প্রভাব কমাতে ফ্রিজ থেকে শসাও খেয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

ফরেনসিক তথ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন

পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যের সঙ্গে তার কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙা এবং মরদেহের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার কারণ নিয়ে ফরেনসিক বিভাগের বক্তব্যে নতুন তথ্য এসেছে।

এখন চার মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। সিআইডির ল্যাব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিষয়ে ফরেনসিক বিভাগের চূড়ান্ত মতামত পাওয়া যাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD