Logo

৩১ ঘণ্টা পর কক্সবাজারে ভেসে এলো নিউজিল্যান্ডের কিশোরের মরদেহ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৫৪
৩১ ঘণ্টা পর কক্সবাজারে ভেসে এলো নিউজিল্যান্ডের কিশোরের মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টে নিখোঁজের প্রায় ৩১ ঘণ্টা পর নিউজিল্যান্ডের ১৬ বছর বয়সী কিশোর আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সৈকতের তীরে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা সৈকতের কর্মীদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সৈকতের কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং মরদেহের শারীরিক বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে এটি নিখোঁজ আলবার্টের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে নাজিরারটেক পয়েন্টের সাগরের মোহনায় প্রবল ঢেউ ও স্রোতের ধাক্কায় ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের একটি বোট ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। ওই সময় বোটে থাকা নিউজিল্যান্ডের একই পরিবারের চার সদস্য সাগরে পড়ে যান।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পরিবারের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পুদনে, তার ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী বেলা এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফ। তবে ১৬ বছর বয়সী আলবার্ট নিখোঁজ ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর থেকেই আলবার্টকে উদ্ধারে সাগরে অভিযান চালায় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেরা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বুধবার বিকেলে সৈকতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি ২০২৪ সালে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসে। পরে কক্সবাজারের এসএম পাড়ার একটি ডকে প্রায় দুই বছর ধরে নিজেদের জন্য ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের বোটটি তৈরি করে। বোটটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রান্নাঘর, ফ্রিজসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। এটি নির্মাণে এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবারটি দীর্ঘ সময় ওই বোটে বসবাস করে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় এলাকায় চলাচল করছিল। নিজেদের তৈরি বোটে সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কারণে সেই বোটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

উদ্ধার হওয়া পরিবারের তিন সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা বোটে করে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তাদের চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তাদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD