পনেরো টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী রায়হান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান দুই আসামি রাজু মির্জা ও জিতুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) শুভ্র সাহার নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি চাপাতি, একটি চাকু, একটি লোহার রড, মরদেহ টুকরা করার কাজে ব্যবহৃত ‘খাইট্রা’, রক্তমাখা বিছানার চাদর এবং নিহত রায়হান তালুকদারের পরনের পাঞ্জাবি ও পায়জামা।
সহকারী পুলিশ সুপার (ত্রিশাল সার্কেল) এস এম হাসান ইসরাফীল জানান, গত ২৭ জুলাই রায়হান তালুকদারের পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, তদন্তের একপর্যায়ে গত ২ আগস্ট রায়হান তালুকদারের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের ১৫টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও জিতুল আত্মগোপনে চলে যান। তাদের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাদের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। পরে গত ৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।
মামলা দায়েরের পর প্রায় ২১ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে রাজু মির্জা ও জিতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং মরদেহ গুমের পুরো ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।








