ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটে অ্যাম্বুলেন্সেই প্রাণ গেল রোগীর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্সেই আমিরুন্নেছা নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। দীর্ঘ সময় যানবাহন প্রায় স্থির থাকায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সটি তীব্র যানজটে আটকা পড়ে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বজনদের ভাষ্য, এরপর প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি কার্যত স্থির অবস্থায় ছিল। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়।
তবে যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায়। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর সেতু পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই যানজট শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্তও অব্যাহত ছিল।
সড়ক বিভাগ জানায়, আষাড়িয়ারচর সেতুর ঢাকামুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দেয়। এ কারণে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। কাজ চলার সময় দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে পর্যায়ক্রমে যানবাহন চালানো হচ্ছে। এতে যানবাহনের চাপ বেড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের পাশাপাশি অনেক যাত্রী খাবার ও পানির সংকটেও পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
স্টার লাইন পরিবহনের চালক ইয়াহিয়া জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে তিনি যানজটে আটকে রয়েছেন। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
মাহাবুব নামে এক বাসযাত্রী বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও তারা একই জায়গায় আটকে রয়েছেন। দীর্ঘ যানজটের প্রকৃত কারণও অনেক সাধারণ যাত্রী জানতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
কাঁচপুর মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিউল ইসলাম বলেন, আষাড়িয়ারচর এলাকায় সড়ক বিভাগের জরুরি সংস্কারকাজের কারণে মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ রয়েছে। অন্য লেন দিয়ে পর্যায়ক্রমে যানবাহন চলাচল করায় যানজট তৈরি হয়েছে।
যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে মহাসড়ক পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।








