চারদিকে শুধু ধ্বংস আর স্বজন হারানোর কান্না, নিহত বেড়ে ৬৩৩

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৬২৬টি নেপালের এবং বাকি সাতটি তিব্বতের বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও গিরংয়ে এ পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে কিংবা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বিভিন্ন ধরনের জঞ্জালের নিচে চাপা পড়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার,পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে নদীতে যে জলাধার তৈরি হয়) ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং তার সঙ্গে আসা টনকে টন কাদা, পাথর, জঞ্জালে ঢেকে যায় দুই দেশের দু’জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।
বিজ্ঞাপন
এদিকে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যারিয়ার হ্রদের পানির প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল সিসিটিভির প্রতিবেদনে।
শুক্রবার এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর তিব্বত ও নেপাল—উভয় স্থানেই উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। কিছু সময় বন্ধ থাকার পর নেপালে আবারও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। তবে চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি তিন দিন পর্যবেক্ষণের পর তিব্বতে পুনরায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
বিজ্ঞাপন








