Logo

৩১ ঘণ্টার জট কাটলেও স্বাভাবিক হয়নি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৫৪
৩১ ঘণ্টার জট কাটলেও স্বাভাবিক হয়নি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ছবি: সংগৃহীত

টানা ৩১ ঘণ্টার ভয়াবহ যানজটের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকেও সোনারগাঁও, মেঘনা, গজারিয়া, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ির ধীরগতি ও জটলা দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা বিপরীত পথে ২-৩ ঘণ্টায় কোনো কোনো অংশ পাড়ি দেওয়া সম্ভব, সেখানে যানজটের কারণে একই পথ অতিক্রম করতে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোনারগাঁও, মেঘনা টোল প্লাজা, গজারিয়া, পুরান বাউশিয়া, দাউদকান্দি টোল প্লাজা ও গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। কিছু জায়গায় আবার গাড়ির জটলা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষারিয়ার চর ব্রিজ এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজের জন্য ঢাকামুখী একটি লেন বন্ধ রাখার পর শুক্রবার সকাল থেকে যানজটের সূত্রপাত। পরে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকায় জট দ্রুত বিস্তৃত হয়ে আষারিয়ার চর থেকে দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছিল। আষারিয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী অংশে বড় গর্ত দেখা দেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। সেখানে প্রায় পাঁচ মিটার অংশে মাইক্রোকংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ঢালাই শক্ত হতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় ওই অংশে একটি লেন বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে সীমিতভাবে যানবাহন চলাচল করানো হয়। একটি লেন দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন পারাপারের চেষ্টা করায় প্রথমে আষারিয়ার চর এলাকায় জট সৃষ্টি হয়। পরে সেই জট পেছনের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় স্থির হয়ে থাকে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, রোগীবাহী যান, অ্যাম্বুলেন্স, কর্মজীবী মানুষ ও পণ্যবাহী পরিবহন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে।

চৌদ্দগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাত্রী আলাউদ্দিন খিলজী বলেন, “ভোর ৬টায় বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। পরিকল্পনা ছিল সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে অফিসে যাওয়ার। কিন্তু আট ঘণ্টারও বেশি সময় রাস্তায় কাটিয়ে আমি দাউদকান্দি পার হয়ে মেঘনা এলাকার কাছাকাছি এসেছি।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার যানজট পেরিয়ে এসেছি। এরপরও সামনে যানজট রয়েছে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকার পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কাউকে দেখলাম না। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে মাইলের পর মাইল যানবাহন আটকে থাকার সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী, কর্মজীবী মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।”

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সংস্কার করা অংশের ঢালাই শক্ত হওয়ার পর শনিবার সকালে বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এরপর আষারিয়ার চর ব্রিজ এলাকায় দুই লেনেই যান চলাচল শুরু হয়। এতে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অংশে যানজট কমতে থাকে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, শনিবার সকালে আষারিয়ার চর ব্রিজের বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

তবে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে বিভিন্ন স্থানে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি। অনেক চালক গাড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ফলে রাস্তার একটি লেন খুলে দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চাপ একসঙ্গে সরানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে মহাসড়কের যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD