Logo

হিটুর ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে শান্তি নেই: আছিয়ার মা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মাগুরা
৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৫১
হিটুর ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে শান্তি নেই: আছিয়ার মা
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার পর আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার বলেন, হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার মনে শান্তি ফিরবে না। রায় বাস্তবায়নের খবর পাওয়ার পরই তিনি ও এলাকাবাসী স্বস্তি পাবেন বলে জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আয়েশা বলেন, তার মেয়ে কোনো অপরাধ করেনি। যে কষ্ট নিয়ে শিশুটি পৃথিবী ছেড়ে গেছে, এমন কষ্ট যেন আর কোনো মাকে সহ্য করতে না হয়। মেয়েকে বাঁচাতে সরকার অনেক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

হিটু শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে আছিয়ার মা বলেন, এমন শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে সবাই বুঝতে পারে অপরাধের বিচার হয়। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আয়েশা আক্তার। তার আশঙ্কা, হিটু শেখের পরিবারের সদস্যরা তার বা পরিবারের অন্যদের ক্ষতি করতে পারেন। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর নজরদারি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্টের এ রায়ের মাধ্যমে আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর অবস্থায় আছিয়াকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই বছরের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি ৪৭ বছর বয়সী হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

পরে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক তৈরি হওয়ার পর ৮ জুন তা হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। রায়ের পর দ্রুত তা কার্যকর এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD