অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খানপুর এলাকায় তিনটি সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। তবে তাদের মধ্যে অনেকের নামের পাশে হাজিরা খাতায় আগেই স্বাক্ষর করা ছিল বলে জানা যায়।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী অফিসগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সার্বিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আগাম হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দেশের জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। তাদের সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কোনো অনুগ্রহ নয়। তাই সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ৯টায় অফিসে যান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হন, তাহলে জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও সামনে আসে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; সরকারি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও যথাযথ সেবা দিতে দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি।








