পেকুয়ায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ মাদক কেনাবেচা এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম চলে আসছে। এতে বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন উজানটিয়া কবির মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রাফসান ও তার বাবা কালু মিয়া। এলাকাবাসীর দাবি, কালু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। আর তার ছেলে রাফসান অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম 1xBet-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজেই অনলাইন জুয়ার লেনদেনের সুযোগ থাকায় উজানটিয়ার বিভিন্ন এলাকার তরুণরা এতে আকৃষ্ট হচ্ছেন। এতে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাফসান। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শত্রুতার কারণে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে রাফসানের বাবা কালু মিয়ার বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বন্ধে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযোগ অনুযায়ী মাদক বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, উজানটিয়া ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে আদিল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে 1xBet-এর এজেন্ট হিসেবে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া মধ্যম উজানটিয়া এলাকার দেলোয়ার, সোনালী বাজার এলাকার শাহ আলম, ঠান্ডার পাড়ার বদিউল আলম, বেলাল উদ্দিন ও শাহাজাহানের বিরুদ্ধেও মাদক বিক্রি কিংবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু মাদক ও অনলাইন জুয়া নয়, এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চুরি ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রও এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, ইউনিয়নে ৫০ জনের বেশি ব্যক্তি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অনলাইন জুয়া কিংবা মাদক সেবনের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। এ কারণে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এলাকাবাসীর মতে, মোবাইল ফোননির্ভর অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকানো না গেলে এর প্রভাব তরুণ প্রজন্মের ওপর আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা বলছেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; পরিবারের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের অনলাইন জুয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে উজানটিয়ায় মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কথাও জানিয়েছেন পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, মধ্যম উজানটিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত দেলোয়ারের বাড়িতে ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই অভিযানে মাদকসহ তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ওসি আরও বলেন, মাদক ব্যবসা ও জুয়া বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
উজানটিয়ায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।








