Logo

৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুটে মিলবে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৪১
৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুটে মিলবে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষামূলক ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুট দিয়ে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়ার দাবি করেছেন বগুড়ার এরুলিয়ায় ফ্লাই হুইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত উদ্ভাবকেরা। তাঁদের দাবি, প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় কম ইনপুট শক্তি ব্যবহার করে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব এই প্রযুক্তিতে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে পাওয়া এই ফলাফল কতটা কার্যকর ও টেকসই, তা যাচাই করতে বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে রুরাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি (আরডিএ)।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘণ্টা মেশিন চালিয়ে ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুটের বিপরীতে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়া গেছে। তাঁদের হিসাবে, ইনপুটের তুলনায় প্রায় ১০০ অ্যাম্পিয়ার বেশি আউটপুট পাওয়া যায়। তবে এই হিসাব বৃহৎ পরিসরে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ফ্লাই হুইল প্রযুক্তির মূল উদ্ভাবক মতিয়ার রহমান (বাদল) বলেন, ২০০৪ সালের দিকে কৌতূহল থেকে তিনি এ প্রযুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে তিনি ভারত ও চীনেও যান।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মতিয়ার রহমানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শুরুতে ডিজেল ইঞ্জিন বা সাপ্লাই লাইন থেকে মোটরের মাধ্যমে বাইরে থেকে তড়িৎ শক্তি সরবরাহ করে ফ্লাই হুইল ঘোরাতে হয়। মোটরের সাহায্যে ফ্লাই হুইলের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরকে ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০০ আরপিএমে নেওয়া হলে ফ্লাই হুইলে কাইনেটিক এনার্জি তৈরি হয়। পরে মোটর ও ফ্লাই হুইলের কাইনেটিক এনার্জিকে ২৫০ আরপিএমে রূপান্তর করে ওই গতির একটি জেনারেটর চালানোর কথা বলছেন তাঁরা।

উদ্ভাবকদের দাবি, প্রচলিত জেনারেটরগুলো ১ হাজার ৪৫০ আরপিএম পর্যন্ত না পৌঁছানো পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেয় না। তাঁদের প্রযুক্তিতে মাত্র ২৫০ আরপিএম গতিতে জেনারেটর ঘুরিয়েই বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ফ্লাই হুইলে তৈরি কাইনেটিক এনার্জি ব্যবহার করে মোটরের প্রয়োজনীয় শক্তির চেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক শক্তি ধারাবাহিকভাবে পাওয়া সম্ভব কি না, এ জন্য বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গবেষণায় যুক্ত পার্টনার উদ্ভাবক মিজানুর রহমান (শাহীন) বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এক ঘণ্টা মেশিন চালিয়ে ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুট দিয়ে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ১০০ অ্যাম্পিয়ার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরডিএর সঙ্গে গবেষণা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে বিগ চিকস ইনকিবিউটার এণ্ড এগ্রি ইঞ্জিনিয়রের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, তাঁরা পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তাঁর দাবি, আরডিএ প্রথম পর্যায়ে তাঁদের গবেষণাটি উপলব্ধি করে এ বিষয়ে গবেষণা করেছে এবং প্রযুক্তিটিকে টেকসই হিসেবে দেখেছে। প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, এরুলিয়ায় ফ্লাই হুইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের যে গবেষণা চলছে, এর মূল উদ্যোক্তা শাহীন ও বাদল। তাঁরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এ নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৪ সালের দিকে আরডিএ এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, ফ্লাই হুইল প্রযুক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল দই তৈরি এবং মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ইনকিউবেটর নিয়েও তাঁদের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবনের কাজ হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে একটি সভার পর ফ্লাই হুইল প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে যাচাই করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেবি/এএস/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD