ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে দীঘিনালার শিক্ষার্থী-অভিভাবক

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানের জন্য দায়িত্বে রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক। তবে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে পাঠদান পরিচালনায় আরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়। মাত্র দুটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়েও উদ্বিগ্ন থাকেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৮২ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। এ অবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
দীঘিনালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কণিকা খীশা বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সন্তানদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বর্তমানে ৮২ জন শিক্ষার্থীকে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।








