শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ, একে একে জ্ঞান হারাল ১৫ শিক্ষার্থী

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে অসুস্থদের মধ্যে ১৫ শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে, তারা হলো—ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তার (১৫)। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় নিয়মিত পাঠদান শুরু হয় বিদ্যালয়টিতে। এক ঘন্টা পর হঠাৎ সপ্তম শ্রেণীর চার জন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর তাদের জ্ঞান ফিরে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণীকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জনের মত শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হাতিয়া জরুরী বিভাগের দায়িত্ব রতন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২ টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জনকে আনা হয়। এদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এদের অনেকের এখনও জ্ঞান ফিরেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানন, প্রথমে যারা জ্ঞান হারান তাদের বাড়িতে যাওয়ার পর জ্ঞান ফিরে এসেছে। কিন্তু পরে যারা অজ্ঞান হন তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরও জ্ঞান ফিরে আসেনি। তবে, কি কারণে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছেন, তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে রোগীদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে এক ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খবর পেয়ে তাদের দেখতে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন। হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্থানীয় সাধারণ মানুষও ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।








