Logo

৮ কেজির দাতিনা মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কলাপাড়া, পটুয়াখালী
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:১১
৮ কেজির দাতিনা মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়
ছবি: প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্য বন্দরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির কালো দাতিনা বা গোল্ডসিল্ক সিব্রিম (Goldsilk seabream) মাছ। ৮ কেজি ওজনের মাছটি উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ৫ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মাছটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সাগর ফিসে নেওয়া হলে সেখানে প্রকাশ্য ডাক শুরু হয়। পরে ‘ফ্রেশ ফিস কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী পি এম মুসা মাছটি কিনে নেন। তিনি জানান, মাছটি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হবে।

স্থানীয়ভাবে কালো দাতিনা, সাদা দাতিনা, জাতি দাতিনা, রাজা দাতিনা কিংবা ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেও পরিচিত এ মাছ সাধারণত সুন্দরবন ও উপকূলীয় লোনা-আধা লোনা পানিতে পাওয়া যায়। জেলেদের জালে সচরাচর এ প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে না। ফলে মাছটি বন্দরে আনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেটি দেখতে আড়তে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিক বলেন, ছোট ইলিশের সঙ্গে জালে একটি দাতিনা মাছও ধরা পড়ে। মাছটি ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে তাঁরা খুশি। এ ধরনের মাছ জালে ধরা পড়লে জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হন।

বিজ্ঞাপন

সিফাত ফিসের আড়তদার মীর মিজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাতিনা মাছের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মাছটির বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডারের কারণে এর দাম বেশি। মাঝে মাঝে এ ধরনের মাছ চার লাখ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে আজকের মাছটি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, কালো দাতিনা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Acanthopagrus berda। এ প্রজাতির মাছ সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে জেলেদের জালে সাধারণত প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার আকারের মাছ বেশি ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, ছোট কাঁকড়া, চিংড়ি, ছোট মাছ, শামুক-ঝিনুক এবং পানির তলদেশের বালু বা কাদায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কৃমি এদের প্রধান খাবার। শক্তিশালী চোয়ালের কারণে শক্ত খোলসযুক্ত কাঁকড়া ও চিংড়িও সহজে খেতে পারে এ মাছ।

বিজ্ঞাপন

ড. রাজীব সরকার আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় পরিবেশ দূষণের কারণে এদের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে। নীল অর্থনীতির বিকাশ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে কালো দাতিনার কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, স্থানীয়ভাবে এ মাছকে দাতিনা বলা হলেও এটি মূলত কালো পোয়া মাছ। এসব মাছ সাধারণত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। মাছের বায়ুথলি থেকে কসমেটিকস, ওষুধ ও সুতা তৈরিতে উপকরণ পাওয়া যায় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেশি।

তিনি আরও বলেন, সব সময় এ মাছ পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে জেলেরা এখন বেশি মাছ পাচ্ছেন। এতে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD