দোহারে পুলিশ চেকপোস্ট, যানজটে নাকাল উপজেলার প্রধান সড়ক

ঢাকার দোহার উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়সংলগ্ন প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যানজটের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে থানা সংলগ্ন সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের হয়রানি এবং কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষেরা প্রতিদিন এ সড়কে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাঁদের দাবি, থানার মোড় থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে জয়পাড়া কলেজ পর্যন্ত সড়কটি যানজটমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের চেকপোস্টে মূলত মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করা হলেও একই সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে তেমন তল্লাশি দেখা যায় না। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন অংশে সিএনজি, অটোরিকশা ও বাসের স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।
তাঁদের দাবি, জয়পাড়া কলেজের প্রবেশপথ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রধান ফটকের আশপাশের পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও এখন অনেকটা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এসব দেখেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া উপজেলার বাসতলা পয়েন্ট, করম আলীর মোড় ও থানার মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় মোটরসাইকেল চালকদের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চালক।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের নামে যদি চেকপোস্ট বসানো হয়, তাহলে শুধু মোটরসাইকেলকেই কেন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? একই সড়কে অটোরিকশা, অটোগাড়ি, ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক ও নসিমন চলাচল করলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না বলে তাঁদের অভিযোগ।
বিজ্ঞাপন
দোহার উপজেলা বিএনপির নেতা রমজান হোসেন মোল্লা বলেন, জয়পাড়া কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের প্রধান সড়কের ফুটপাত দখলের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেট এবং আশপাশের সড়কে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও হকার বসায় রাস্তা সরু হয়ে পড়েছে।
দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বলেন, উপজেলার প্রধান সড়ক, হাসপাতাল ও কলেজের সামনে অপরিকল্পিতভাবে গাড়ি, অটোরিকশা, সিএনজি ও বাসের স্ট্যান্ড রাখায় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
জয়পাড়া বাজার সমিতির সভাপতি ও পৌরসভা বিএনপির সভাপতি এস এম কুদ্দুস বলেন, পৌরসভার অন্যতম ব্যস্ত সড়কের ফুটপাত দখল এবং বিভিন্ন ধরনের স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও কিছুদিনের মধ্যেই আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনই চেক করা হচ্ছে।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশিনা আরিফ বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর কাছে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








