পদুয়া হাঙর বিটের বিরুদ্ধে বন রক্ষার বদলে ধ্বংসের অভিযোগ

বনাঞ্চল রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই এবার বন ও পাহাড় ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের হাঙর বিটের আওতাধীন এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরবতা ও যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নীরবতার সুযোগে এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র। তাদের দাবি, প্রশাসন ও বন বিভাগের কার্যকর নজরদারি না থাকায় একের পর এক পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং বনভূমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
হাঙর বিটের আওতাধীন বান্দরবানের টংকাবতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদের পাড়ার আলী হোছেনের চড়া, বড় ঝিরি ও নতুন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অন্তত তিনটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ, আজিজুল হক নামে এক ব্যক্তি নিজের বাড়ির পাশের এসব পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে বনভূমির জায়গা দখলেরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটার বিষয়টি পদুয়া রেঞ্জের হাঙর বিট কর্মকর্তা এ কে এম আবু সাঈদকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে পাহাড় কাটার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড় কাটার বিষয়টি স্থানীয় এক ব্যক্তি বন বিভাগের হামিদ নামের এক কর্মীকে মুঠোফোনে একাধিকবার জানানোর চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে বিষয়টি জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড় কাটার সময় ওই বনকর্মীকে এলাকাটিতে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড় রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তাদের দাবি, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে হাঙর বিট কর্মকর্তা এ কে এম আবু সাঈদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা।
এলাকার পরিবেশ সচেতন নাগরিক সমাজ সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশের অভিযোগ ওঠা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।








