নাটোরে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ, মেঝেতেই সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা

নাটোরে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন। একসঙ্গে এত রোগী আসায় চাপ বেড়েছে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। শয্যা সংকটে কয়েকজন রোগীকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং ৪৭ জন নারী ও শিশু।
আক্রান্ত রোগীদের বড় একটি অংশ নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় কয়েকজনকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা বেগম জানান, বুধবার সকালে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ তাঁর পাতলা পায়খানা, বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। পরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর শাশুড়ি ও ননদদের মধ্যেও।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
পরিবারের সবাই সরবরাহ করা পানি ব্যবহার করেন জানিয়ে নাজমা বলেন, ওই পানি থেকেই অসুস্থতা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
বিজ্ঞাপন
কানাইখালী এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলামেরও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রথমে সামান্য পাতলা পায়খানা হলেও পরে তা বাড়তে থাকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
হাসপাতালে এসে নিজের এলাকার আরও অনেক মানুষকে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখেছেন বলে জানান রবিউল।
এদিকে নাটোরে ডায়রিয়ার হঠাৎ এই বিস্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্তদের মধ্যে কোনো বিশেষ এলাকার মানুষের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
নাটোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, মৌসুম পরিবর্তনের সময় সাধারণত ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বাড়ে। তবে এবার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। শুধু বৃহস্পতিবারই ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন। এর পাশাপাশি প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি স্যালাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সিভিল সার্জন। আগামী শনিবার বা রোববার নতুন করে স্যালাইনের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।








