প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আটক

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা আটক করেছেন।পরে অভিযুক্ত নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আকবরশাহ থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার (৩৯) এবং নুরুন্নবী মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। আর কাজী পারভীন আক্তার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী জহির শাহ সৌদি আরবপ্রবাসী।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে পারভীনের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহির শাহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্ত্রীকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে এরপরও তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নুরুন্নবী আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে পারভীনের সঙ্গে রাত যাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জহির শাহ প্রবাস থেকে তার ভাই নাদিম ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও পারভীনকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে, পারভীন তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করেন এবং তার পরিহিত শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন, জহির শাহের সঙ্গে পারভীনের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি পারভীনকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন পারভীনকে আকবরশাহ থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আটক হন। পরে জানা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রবাসী জহির একই এলাকার এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল।
ওসি জানান, এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন








