তিন শিশু সন্তানকে হত্যা, জুয়া-মাদকে আসক্ত ছিলেন বাবা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তিন সন্তানকে খাওয়ানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন শরাফত আলী নামে এক ব্যক্তি।
বিজ্ঞাপন
বিষক্রিয়ায় তাঁর তিন সন্তান মাওয়া (১০), তামিম (৭) ও শামিম (২) মারা গেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শরাফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনরা চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিনের কাছে নিয়ে যান। পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া জানান, ঘটনাটি রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিন শিশুসহ তাঁদের বাবাকে হাসপাতালে আনা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় শরাফত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রতিবেশী ও আত্মীয় রনু মিয়া জানান, শরাফত আলীর স্ত্রী সৌদি আরবে প্রবাসী। ঘটনার দিন শরাফত তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় বড়ছড়া বাজারে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার সময় তিনি সঙ্গে করে বিরিয়ানি নিয়ে যান। তাঁর ধারণা, ওই বিরিয়ানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সন্তানদের খাওয়ানোর পর শরাফত নিজেও তা খেয়েছেন।
রনু মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শরাফত জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছিল। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে শরাফত আলীর জুয়া ও মাদকে আসক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটির কারণ ও বিষপানের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।








