Logo

‘মামা, আমাকে বাঁচান’—আকুতি সাজমীর, চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ফুলতলা, খুলনা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:১৩
‘মামা, আমাকে বাঁচান’—আকুতি সাজমীর, চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যা
ছবি প্রতিনিধি।

খুলনায় চুরির অভিযোগ তুলে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে ধরে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার চার দিন পর সাজমীর নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে খুলনার খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

নিহত সাজমীর খুলনার তেলিগাতী এলাকার বাসিন্দা। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কুয়েটের ইউআরপি বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী তৌফিকের সঙ্গে সাজমীরের পরিচয় ছিল। একপর্যায়ে তৌফিক তাকে ঢাকায় নিজের বাসায় কাজের প্রস্তাব দেন। সাজমীর সেখানে গিয়ে মাত্র তিন দিন থাকার পর খুলনায় ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এরপর তেলিগাতী এলাকার একটি পানির কোম্পানিতে ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন সাজমীর। পরিবারের অভিযোগ, ৫ সেপ্টেম্বর তাকে সেখান থেকে ধরে নেওয়া হয়। পরে শিরোমণি এলাকার একটি স্থানে খেজুরগাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নিহতের স্বজনদের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে সাজমীর তার মামাকে দেখে বাঁচানোর আকুতি জানান। পরে তাকে কুয়েটের পকেট গেট এলাকায় নেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্বজনরা আরও জানান, সাজমীরের বিরুদ্ধে প্রথমে একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে ভারতীয় রুপি চুরির অভিযোগও করা হয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজমীর স্বজনদের জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো টাকা নেননি; শুধু একটি মোবাইল ফোন নিয়ে এসেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর সাজমীরের মা বাদী হয়ে খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী তৌফিকসহ স্থানীয় আকাশ, স্বাধীন ও সাকিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খানজাহান আলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাজমীরকে মারধর করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD