স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করে অঝোরে কাঁদলেন এমপি মনিরুল হক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় অপ্রতীমের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতি অনুরোধ জানান সংসদ সদস্য।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকেই স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করেন এমপি মনিরুল হক। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ফোনালাপের এ তথ্য জানানো হয়।
ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে.... শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’
পরে তিনি বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কিনা। এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
বিজ্ঞাপন
জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘জ্বি, শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করবো। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’
পরে মনিরুল হক বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এর আগে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় যান এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছেলেকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’
নাহিদা বেগম আরও বলেন, ‘আমি কোনও বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’
ছেলেকে হারিয়ে কীভাবে জীবন কাটাবেন, সেই অসহায়ত্বের কথাও বলতে থাকেন তিনি। বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাবো? আমি আমার জীবন পার করবো কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করবো কেমনে।’
বিজ্ঞাপন
মায়ের এসব কথা শুনে মনিরুল হক চৌধুরীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’
নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকায় অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বিজ্ঞাপন
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেন।
দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞাপন








