কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও কালিগঞ্জ থানার আশপাশের এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আহতরা হলেন—রোকনুজ্জামান রোকনের সমর্থক সবুজ ও ছোটন এবং অপর পক্ষের আল ইমরান হোসেন, বিপুল হোসেন ও আজমির হোসেন। তাঁদের মধ্যে সবুজ ও ছোটনকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আল ইমরান হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। একই সময়ে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে বিকেল ৫টায় পৃথক কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। দুটি পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
একপর্যায়ে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে কালিগঞ্জ থানার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে মিছিলটি এগিয়ে গেলে অপর পক্ষের মিছিলের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান ও শেখ নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। অন্যদিকে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।








