Logo

ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: নিহত কলির পা খুঁজতে ঘটনাস্থলে পুলিশ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:২৭
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: নিহত কলির পা খুঁজতে ঘটনাস্থলে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের সাত দিন পর ঘটনাস্থলে আবারও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া এলাকায় কলির মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশে তার দুই পা খুঁজতে তল্লাশি চালায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের এই তল্লাশির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরে রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন এই প্রতিবেদক। এরপর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ দাবি করেছিলেন, কলিকে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কলির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং আশপাশের ডোবায় তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুঁজি করা হয়।

তবে এ তল্লাশির পরও কলির দুই পা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, শিশুটিকে দাফনের সময় তার দুটি পা ছিল না। সেই পা কোথায় গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায় বলেন, স্থানীয়রা পা খুঁজে দেখতে চেয়েছিল। এ কারণে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, শিশুটির স্বজনরা দাবি করেছিলেন, পায়ের নিচের অংশের মাংস নেই। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছিলেন, তদন্তে উঠে এসেছে—মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি ঘরে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর নিজেদের সন্দেহের বাইরে রাখতে আসামিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কলিকে খোঁজার পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভেও অংশ নেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ইয়াছিন আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD