মেয়ের কনের সাজের ছবি নিয়ে শোকে কাতর পরিবার

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে শিশু মুসলিমার মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। মেয়ের কনের সাজের ছবি হাতে নিয়ে বাড়ির উঠানে বসে আছেন বাবা ইসলাম শেখ। আর মেয়েকে হারানোর শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা লাইলি বেগম। জ্ঞান ফিরেই কাতর কণ্ঠে তিনি জানতে চাইছেন, ‘মুসলিমা কই?’
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামে মুসলিমাদের বাড়িতে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি পানবরজ ও মাছের ঘেরের মাঝামাঝি এলাকা থেকে মুসলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে মায়ের অনুমতি নিয়ে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে খেলতে যায় মুসলিমা। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, জাহাঙ্গীরের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পানবরজ, পুকুর ও পাশের মাছের ঘেরের এলাকায় খোঁজ চালিয়ে মুসলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর জাহাঙ্গীর শেখ (৫৫), তার দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমানকে (১৯) স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় উত্তেজিত স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরের বসতঘর, পানবরজ, খড়ের গাদা ও রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
মুসলিমার বাবা ইসলাম শেখ বলেন, এর আগে রমজান তার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মুসলিমার মা লাইলি বেগম বলেন, বিকেলে খেলতে যাওয়ার পর মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। পরে পানবরজের পাশে মেয়ের মরদেহ পাওয়ার কথা জানতে পারেন। এ কথা বলতে গিয়ে তিনি আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মুসলিমার বাবা বাদী হয়ে শনিবার রাতেই মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, শিশু মুসলিমা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ইসলাম শেখ ও লাইলি বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল মুসলিমা। জানাজা শেষে রবিবার বিকেলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।








