বেনাপোল বন্দরে নতুন ক্রেন-ইকুইপমেন্ট, বাড়ছে পণ্য ওঠানামার গতি

‘শ্রমিক বাঁচলে আমরা বাঁচব, আমরা বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে। নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দরে এসেছে নতুন ক্রেন ও প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট। এতে পণ্য ওঠানামার কাজে গতি বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় এবং সরকার এ বন্দর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, পণ্য ওঠানামায় ব্যবহৃত ক্রেন-ফর্কলিফটের সেবা মান প্রত্যাশিত ছিল না। এতে পণ্য খালাসে সময় লাগার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ক্রেন-ফর্কলিফটসহ আধুনিক সরঞ্জাম বন্দরে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের টনপ্রতি মজুরি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের মধ্যে হেলমেট ও গ্লাভস বিতরণ করা হয়েছে।
বন্দরের নতুন সরঞ্জাম আসায় শ্রমিকদের মধ্যে কাজের আগ্রহ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, আধুনিক ক্রেন-ফর্কলিফটের ব্যবহারে পণ্য ওঠানামার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শ্রমিকদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কম ছিল। বিপদে-আপদে শ্রমিকদের খোঁজখবর নেওয়া হতো না। নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি হেলমেট ও গ্লাভস দেওয়া হয়েছে। এতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বেনাপোল (৯২৫) হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে বেনাপোল স্থলবন্দরে কাজের গতি আরও বাড়ে এবং শ্রমিকরা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান।
এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক শহীদ হোসেন বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ঠিকাদারি কাজ করা নয়, বেনাপোল স্থলবন্দরের কাজের গতি আরও বাড়ানো। এ জন্য নতুন ও আধুনিক ক্রেন এবং প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বন্দর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে বেনাপোল বন্দরের পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।








