Logo

রাজশাহীতে কেক কেটে ধুমধাম করে মোরগের জন্মদিন পালন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৪৫
রাজশাহীতে কেক কেটে ধুমধাম করে মোরগের জন্মদিন পালন
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর পুঠিয়ায় পরিবারের সদস্যের মতোই আদর-যত্নে বেড়ে ওঠা ‘চুচু’ নামের একটি মোরগের প্রথম জন্মদিন ধুমধাম করে উদ্‌যাপন করা হয়েছে। বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া পাঁচটি ডিমের একটি থেকে জন্ম নেওয়া চুচুর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেক খেয়েছে মোরগটিও।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামের আবদুল হাদীর বাড়িতে এ আয়োজন করা হয়। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চুচুর সখ্য বেশ গভীর। নাম ধরে ডাকলেই সে ছুটে আসে। এমনকি পরিবারের সদস্য সুজানা শবনমের কোলে উঠে আদরও নেয়। জন্মদিনে কেক কাটার সময়ও তাকে সুজানার কোলে বসানো হয়। কেক মুখের কাছে ধরতেই আগ্রহ নিয়ে খেতে শুরু করে চুচু।

চুচুর জন্মের গল্পটিও বেশ ব্যতিক্রমী। বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসতে থাকা পাঁচটি ডিম খেলার ছলে কাঠি দিয়ে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসে শিশু নিশাত শবনম। পরে ডিমগুলো ভাঙার সময় একটি ডিমের ভেতর জীবিত ছানা পাওয়া যায়। তখনো ছানাটির চোখ ফোটেনি।

বিজ্ঞাপন

এরপর পরিবারের সদস্যরা ছানাটির যত্ন নেওয়া শুরু করেন। কিছুদিন পর ছানাটি ‘চু চু’ শব্দ করতে থাকে। সেই শব্দ থেকেই তার নাম রাখা হয় ‘চুচু’। পরে বড় হওয়ার পর জানা যায়, সেটি একটি মোরগ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সুজানা শবনম জানান, চোখ ফোটা পর্যন্ত তুলার মধ্যে রেখে চুচুর যত্ন নেওয়া হয়েছিল। পরে পানি মিশিয়ে তাকে ফিড খাওয়ানো শুরু করেন তারা। নিজেদের হাতে খাবার খাওয়ানোর কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চুচুর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শুরুতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ঘুমাত সে। পরে তার জন্য কাঠ দিয়ে একটি ছোট ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়।

চুচুর পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে নুডলস, চাল ও কেক। সাদা ভাত খেতে খুব একটা আগ্রহ না দেখালেও পোলাও বেশ আগ্রহ নিয়ে খায় সে।

বিজ্ঞাপন

চুচুর জন্মদিনের আয়োজনে পরিবারের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটার সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে আনন্দ করেন। কেক খাওয়ানোর সময়ও চুচু বেশ আগ্রহ দেখায়।

সুজানার চাচি নূরজাহান বেগম জানান, তার একটি মুরগি ১২টি ডিম দিয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি ডিম থেকে নির্ধারিত সময়ে ছানা বের হয়। তবে বাকি পাঁচটি ডিম থেকে ছানা না হওয়ায় আরও দুই দিন মুরগিটিকে ডিমের ওপর বসিয়ে রাখা হয়। এরপর ডিমগুলো পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক জালাল উদ্দিন সরদার বলেন, একটি মুরগির জন্য ১২টি ডিম বেশি। মুরগি ছোট হলে কয়েকটি ডিম পর্যাপ্ত তাপ না পাওয়ায় ২১ দিনের মধ্যে ছানা নাও ফুটতে পারে। তবে ডিম ভালো থাকলে পরে সেখান থেকে ছানা বের হয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চুচুকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আবেগও বেশ গভীর। সুজানা শবনম বলেন, চুচু যত দিন বেঁচে থাকবে, তত দিন এই বাড়িতেই থাকবে। এত আদরের মোরগকে তারা জবাই বা বিক্রি করবেন না। এখন চুচু তাদের পরিবারেরই একজন সদস্য।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD