বাড়ির ওপর অভিমান, বিটিএসের টানে দেশ ছাড়তে চেয়েছিল ৩ স্কুলছাত্রী

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল পাবনা সদর উপজেলার তিন স্কুলছাত্রী। পরিবারের ওপর অভিমান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি আগ্রহ থেকে তাদের একজন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরে দুই সহপাঠীও তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুলে এসে তিনজন একত্র হলেও ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশায় পাবনা বাস টার্মিনালে যায়। সেখান থেকে বাসে নাটোর, পরে রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছে তারা। তবে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলায় শেষ পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে রাত কাটানোর জায়গা খুঁজতে গিয়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। তাদের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের স্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করার পর কৌশলে তাদের পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন।
পরে এসআই তাজ বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এদিকে মেয়েরা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা পাবনা সদর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পাবনা জেলা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। কুড়িগ্রাম সদর থানার পুলিশের সহায়তায় তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন কিশোরীই পাবনা সদর উপজেলার চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে দুজন পরস্পরের আত্মীয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিন কিশোরীর একজন দীর্ঘদিন ধরে নিজের চেহারা ও চোখের সমস্যা নিয়ে পরিবারের কাছ থেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার মধ্যে ক্ষোভ ও অভিমান তৈরি হয়। অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার পাশাপাশি বিটিএসের প্রতিও তার আগ্রহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে এবং বিষয়টি দুই সহপাঠীকে জানায়।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একজন পরিবারের গচ্ছিত প্রায় এক লাখ টাকা সঙ্গে নিয়েছিল।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পাবনা সদর থানা পুলিশ।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন উপপরিদর্শকের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন








