Logo

১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কুরআন পড়েন আব্বাস

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নাটোর
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২:৫৫
১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কুরআন পড়েন আব্বাস
ছবি: সংগৃহীত

বয়স পেরিয়েছে ১২৩ বছর। শরীরে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট, হারিয়েছেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা, শ্রবণশক্তিও আগের মতো নেই। কাঁপে দুই হাত। কিন্তু এসব কিছুই যেন তাঁর দৃষ্টিশক্তিকে হার মানাতে পারেনি। এই বয়সেও কোনো চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন নাটোরের গুরুদাসপুরের প্রবীণ আব্বাস আলী প্রামাণিক।

বিজ্ঞাপন

ভোটার পরিচয়পত্র অনুযায়ী আব্বাস আলী প্রামাণিকের বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স এর চেয়েও বেশি। দীর্ঘ জীবনে তিনি ব্রিটিশ শাসন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী হয়েছেন। তাঁর নাতি-নাতনিদের অনেকের বয়সও এখন ৬০ বছর পেরিয়েছে।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামে বসবাস করেন আব্বাস আলী। জীবনের দীর্ঘ সময় ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন তিনি। বয়সের ভার কিংবা অসুস্থতা—কোনো কিছুই তাঁকে নামাজ থেকে দূরে রাখতে পারেনি। স্থানীয়দের কাছে তিনি সদাচারী ও ধর্মভীরু মানুষ হিসেবে পরিচিত।

আব্বাস আলীর পেশাগত জীবনও ছিল মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই অনেককে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের সেবায়ও জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সময়ে অল্প বয়সেই অনেকের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দিলেও ১২৩ বছর বয়সে আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি এখনো যথেষ্ট ভালো থাকা আশপাশের মানুষকে বিস্মিত করে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না, এমনকি দীর্ঘ সময় বসে থাকতেও তাঁর কষ্ট হয়। তবুও সুযোগ পেলেই হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআন। একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টে কোনো চশমার সাহায্য ছাড়াই তিলাওয়াত করেন তিনি।

অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন আব্বাস আলী। জীবনে কখনো যানবাহনে চড়েননি বলেও জানা গেছে। প্রয়োজনীয় কাজে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতেন। একসময় পরিবারে সচ্ছলতা থাকলেও বয়সের ভার ও সময়ের পরিবর্তনে বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ ঘরে তাঁর দিন কাটছে। তবে ছেলে, মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পাচ্ছেন তিনি।

ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করে তুলেছেন আব্বাস আলী। পরে তাঁদের বিয়েও দিয়েছেন। মেয়েরাও সুযোগ পেলেই বাবাকে দেখতে ছুটে আসেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, বয়সের কারণে বর্তমানে আব্বাস আলীর শারীরিক অবস্থার বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। তাঁর পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ভালো বাসস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে প্রবীণ এই মানুষটির শেষ জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

জীবনের শেষ অধ্যায়েও পবিত্র কুরআনের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক স্থানীয়দের কাছে আলাদা অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে আছে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানুষের সেবায় দীর্ঘ জীবন কাটানো আব্বাস আলী প্রামাণিককে ঘিরে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তিনি সুস্থ থাকুন এবং আরও কিছুদিন আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD