বাঞ্ছারামপুরে বন্ধ তাঁতকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ, পরিদর্শনে চেয়ারম্যান

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন সার্ভিসেস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার (এসএফসি) ও বেসিক সেন্টার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তাঁতকেন্দ্র দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেন। এ সময় বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, সরকারি জমির বর্তমান অবস্থা এবং স্থানীয় তাঁতশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য (অর্থ) ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন) কে এম আবুল কালাম আজাদ, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জিসান সরকার, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ও প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল বিন ইউসুফ সামি, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক এম এ সালাম, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শন শেষে তাঁত বোর্ড চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কেন্দ্র দুটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখা হয়েছে। এগুলো কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি তাঁত বোর্ডের জমি বেদখলে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাঞ্ছারামপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে। বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোকে ফেলে না রেখে কীভাবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে আবার কার্যকর করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে তাঁতিদের কাজে লাগবে এমন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
তাঁত বোর্ড সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসএফসি ও বেসিক সেন্টারের ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোর আওতাধীন সরকারি জমির একটি অংশ বেদখলে থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা বলেন, একসময় বাঞ্ছারামপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিনের অবহেলায় সেই শিল্প অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। বন্ধ থাকা সরকারি তাঁতকেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করে কার্যকর করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।








