Logo

লাল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ মধুখালীর দর্শনার্থীরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
মধুখালী, ফরিদপুর
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:২০
লাল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ মধুখালীর দর্শনার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ধোপাডাঙ্গা-গাবুরদিয়া শাপলা বিলে ফুটেছে লাল ও সাদা শাপলা। বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য এখন মুগ্ধ করছে স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই বিলটি স্থানীয়দের কাছে ‘লাল শাপলার রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার কোরকদী ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা-গাবুরদিয়া গ্রামে অবস্থিত বিলটির অবস্থান মধুখালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। ফরিদপুর শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। শাপলা ফুটতে শুরু করায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরোনো এ বিলের বিস্তৃতি প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার। বর্ষা ও শরতের সময়ে বিলজুড়ে লাল ও সাদা শাপলা ফুটে মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়। তবে সাদা শাপলার তুলনায় লাল শাপলার সংখ্যাই বেশি।

বিলের পাড়ের বাসিন্দা কুশই কুমার জানান, সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাস বিলে শাপলা ফুটে। শাপলা এখন স্থানীয়দের কাছে সবজি হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। অনেকে বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, শীতের শুরুতে, সাধারণত ডিসেম্বরের দিকে বিলের পানি কমে গেলে শাপলা শুকিয়ে যায়। তখন কৃষকেরা জমি পরিষ্কার করে ইরি ধান, পেঁয়াজ ও পাট চাষ করেন। পরবর্তী বছর শাপলার গোড়া ও মোথা থেকে আবার নতুন করে শাপলা জন্ম নেয়।

আরেক বাসিন্দা আনন্দ সরকার বলেন, ‘সাধারণত আগস্ট-নভেম্বর পর্যন্ত এখানে শাপলা ফোটে। আর শাপলা দেখতে হলে অবশ্যই খুব সকালে যেতে হবে। কারণ বেলা বাড়তেই শাপলা ফুল নিজেকে গুটিয়ে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, অনেক ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতা বিলে এসে শাপলার সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এতে জায়গাটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও পরিচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলটির প্রতি আরও নজর দেওয়া হলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিলের সৌন্দর্য রক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।

বাবা-মায়ের সঙ্গে শাপলা দেখতে আসা ছোট্ট দর্শনার্থী মকসুরা তুজ সাহাবা বলেন, ‘লাল শাপলার বিলে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোতে মজা অনেক।’

বিলটির সৌন্দর্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কোরকদী ইউনিয়নে একটি লাল শাপলার বিল রয়েছে সেটা অবগত আছি। সৌন্দর্য রক্ষার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এ শাপলা বিল প্রতিবছরই স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। শাপলা ফোটার মৌসুমে ভোরের আলোয় লাল-সাদা ফুলে ভরে ওঠা বিলটি মধুখালীর গ্রামীণ প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD