শাল্লায় ফুটবল উৎসব, ফাইনালে ইন্দারপুর ইয়াংস্টারের জয়

সুনামগঞ্জের শাল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে শ্রীহাইল শাহ-নোমান চৌধুরী স্পোর্টস একাডেমি আয়োজিত মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে হোসেনপুর নালিয়া বিছড়া মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নালিয়া বিছড়া একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্দারপুর ইয়াংস্টার।
বিজ্ঞাপন
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই শ্রীহাইল ও আশপাশের এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক মাঠে উপস্থিত হন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইন্দারপুর ইয়াংস্টার ও নালিয়া বিছড়া একাদশ। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে খেলা। নির্ধারিত সময়ের খেলায় জিশানের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইন্দারপুর ইয়াংস্টার। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি। রানার্সআপ হয় নালিয়া বিছড়া একাদশ।
ফাইনালে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য ইন্দারপুর ইয়াংস্টারের জিশানকে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাল্লা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কালিপদ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন হেকমত মিয়া, আলী রাজ, পায়েল, আশিক, মনোয়ার আহমেদ, কখন মিয়া ও সালেম মিয়াসহ শ্রীহাইল ও হোসেনপুর গ্রামের রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
খেলা পরিচালনা করেন রেফারি মশিউর রহমান অরূপ। তাঁকে সহযোগিতা করেন মানিক মিয়া ও মাজাউল। ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন লাদেন মিয়া। টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন চৌধুরী তৌহিদ এলাহী ও দিনার।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
বিজ্ঞাপন
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কালিপদ রায় বলেন, শ্রীহাইল গ্রামের বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের উপজেলা পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে শাল্লা উপজেলায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য শ্রীহাইলের খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে সুন্দর ক্রীড়া আয়োজনের জন্য স্পোর্টস একাডেমির আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকরা জানান, ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীহাইল শাহ-নোমান চৌধুরী স্পোর্টস একাডেমির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা। ভবিষ্যতে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
স্থানীয়রা বলেন, গ্রামে নিয়মিত এমন ক্রীড়া আয়োজন হলে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।








