Logo

আবরার হত্যার ৭ বছর, শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

profile picture
বাসস
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৫৩
আবরার হত্যার ৭ বছর, শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার
আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরদিন ভোরে মারা যান আবরার। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও সাত বছর পরও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা কাটছে না আবরারের পরিবারের।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৭ অক্টোবর) আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়িতে আবারও নেমে এসেছে পুরোনো শোকের ছায়া। সাত বছর আগে যে ঘর থেকে মাকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন আবরার, সেই ঘরেই এখনো সাজানো রয়েছে তার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বই-খাতা, পড়ার টেবিলসহ ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস। শুধু নেই পরিবারের সেই মেধাবী সন্তান।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাসে ওঠার আগে মা রোকেয়া খাতুন নিজ হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে আবরারের শেষ দেখা। পরদিন ভোরে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে যে শোক পরিবারকে ঘিরে ধরেছিল, সাত বছর পরও তা কাটেনি।

আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও জীবদ্দশায় নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। তিনি বলেন, বেঁচে থাকতেই যেন আবরার ফাহাদের ঘাতকদের শাস্তি কার্যকর হতে দেখে যেতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্র জানায়, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বর্তমানে অসুস্থ। তিনি ছোট ছেলে আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে ঢাকায় থাকছেন। বড় ভাই হত্যার পর ফাইয়াজও বুয়েটে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে ভাইয়ের স্মৃতি ও অসমাপ্ত স্বপ্নকে বয়ে নিয়ে চলছেন তিনি।

কুষ্টিয়ার বাড়িতে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে আবরারের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। শোকেসে রাখা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল, বই-খাতাসহ প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন পরিবারের কাছে যেন আবরারের শেষ স্মৃতি। এসব জিনিসের মধ্যেই মা-বাবা তাদের সন্তানকে খুঁজে ফেরেন।

আবরারের স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহাসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে তাদের সন্তান থেকে বঞ্চিত করেনি, দেশজুড়েও সৃষ্টি করেছিল ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আদালতের রায় হলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় সাত বছর পরও আবরারের পরিবারের কাছে বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি।

প্রতিবছর আবরারের মৃত্যুবার্ষিকী ফিরে আসে, ফিরে আসে সেই শেষ বিদায়ের স্মৃতিও। মায়ের হাতে খাওয়া শেষ খাবার, বাবার সঙ্গে শেষ কথা এবং বাসে উঠে ঢাকার পথে যাত্রা করা সেই তরুণের মুখ এখনো পরিবারের স্মৃতিতে অমলিন।

আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা সন্তানের হত্যার বিচার পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘৭ বছর কেটে গেল, অথচ এখনও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়নি। যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আবরারের মৃত্যু হয়েছে, সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি আমরা আসামিদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই।’

পরিবারের প্রত্যাশা, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে আবরার হত্যার বিচার পূর্ণতা পাবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD