Logo

চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারিতে এলপিজির বাজার: ডিসি জাহিদ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:০৪
চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারিতে এলপিজির বাজার: ডিসি জাহিদ
ছবি: সংগৃহীত

এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানিকারক থেকে শুরু করে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা—সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেন, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে নির্ধারিত দামে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক জানান, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে এবং বাকি ১৪টি মোংলায় অবস্থিত। চট্টগ্রামের প্ল্যান্টগুলোতে কোন প্রতিষ্ঠান কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং আমদানি করা গ্যাস কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমদানির পর কতটুকু গ্যাস পরিবেশকদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কী পরিমাণ খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, তাও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা—সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। যাতে কোনো পক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে গ্যাস আটকে রেখে সংকট তৈরি কিংবা বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এদিকে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। নতুন মূল্য কার্যকরের পর ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করছে জেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, কিছু ডিলার কারসাজির মাধ্যমে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। তবে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ না থাকলেও বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ শতাংশ। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও চট্টগ্রামের বাজারে এর সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি ও মূল্য কারসাজি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও তদারকি চলবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD