মৌলভীবাজারে হাম ও ডেঙ্গুর দাপট, ৯ মাসে ১৫ শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজারে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত জেলায় হামে মৃত্যুবরণ করেছে ১৫ জন শিশু। ডেঙ্গুতে কেউ মারা না গেলেও প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত সংখ্যা। জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে গত ৯ মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জেলার কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যৗ কমপ্লেক্সে ২ জন, বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন হাম আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ১২৩ জনকে পরীক্ষা করে হাম আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ১৫৮ জন এবং রুবেলা আক্রান্ত পাওয়া গেছে ২ জন। বর্তমানে হাম সন্দেহে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ১১ জন রোগী।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, কুলাউড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া জেলার বেসরকারি হাসপাতালে অনেক কিছু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ৯ মাসে পুরো জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮৯২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৫৮ জনের। এছাড়াও ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৩৪ জনের। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জনের। তবে এর বাহিরে অনেকেই প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন অনেকেই।
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রনয় কান্তি দাশ বলেন, ‘আমরা সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল সংখ্যক রোগীকে একসাথে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী আমাদের সামলাতে হচ্ছে প্রতিনিয়তই। হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন।’
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ২০২৬ সালের মোট ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৪৯ জন। যাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে তারা সকলেই ঢাকা থেকে আগত বা কোন কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন। এই ৪৯ জনের মধ্যে সকলেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন, কোন মৃত্যুর রেকর্ড নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা আমাদের বাড়ির আশপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো।
এটা আমাদের প্রত্যেক অফিস জেলা থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে পালন করে থাকি। এ বছর এই পর্যন্ত ১৫ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে এ বছর ২ হাজার ১২৩ জনের পরীক্ষা করার পর ল্যাব টেস্টে পজেটিভ হয়েছে ১৫৮ জন। হাম একজনের হলে তাকে আইস্যুলেশনে রাখতে হয়। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে সদা সর্বদা কাজ করে চলেছি। জনগণেরও সহায়তা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন








