পদ্মা সেতু এলাকায় নদীভাঙন রোধ ও উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ

পদ্মা সেতু এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। শনিবার (১০ অক্টোবর) পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনের সময় সেতুর জাজিরা প্রান্তের মাঝিরকান্দি এলাকায় নদীভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন সচিব। এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান নদীভাঙন প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় পদ্মা সেতু এলাকায় রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন তিনি। চারাগাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া পদ্মা সেতুর ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) নিবন্ধন কার্যক্রম, জাদুঘর নির্মাণ এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন সেতু বিভাগের সচিব। আধুনিক ও নির্বিঘ্ন টোল আদায় ব্যবস্থা সম্প্রসারণে ইটিসি নিবন্ধন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাজিরা প্রান্তে নির্মাণাধীন বাস-বে, যাত্রীছাউনি ও ফুটওভার ব্রিজের কাজও পরিদর্শন করেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে আগামী পবিত্র ঈদের আগেই এসব স্থাপনার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেন, যাতে ঈদযাত্রায় যাত্রীরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।
পদ্মা সেতুর সার্ভিস এলাকায় নির্মাণাধীন বাস-বে আলোকিত করতে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও নির্দেশ দেন তিনি। বাস-বে এলাকায় স্থাপিত সৌরবাতির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সেতু বিভাগের সচিব।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে পদ্মা সেতুর সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, চলমান প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।








