পানছড়িতে ১ম বর্ষাতেই নবনির্মিত স্কুল ভবনে ফাটল, ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার কাতাল মনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নির্মিত নবনির্মিত ভবনটি হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নির্মাণের পর প্রথম বর্ষা মৌসুমেই ভবনের ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ছে এবং দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এলজিইডি (LGED)-এর অধীনে বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অনিয়মের মাধ্যমে ভবনটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে প্রথম বর্ষা মৌসুমেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সাথে ভবনের বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, খাগড়াছড়ি অঞ্চল এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ। এ অবস্থায় কোনো বড় ধরনের ভূমিকম্প বা টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা হলে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও ভবনটি আজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের সন্তানদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রথম বর্ষাতেই যদি দালানে ফাটল ধরে ও ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তবে এই ভবনে কীভাবে ক্লাস চলবে? আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক এবং ভবনটি পুনর্নির্মাণ বা টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করুক।"
বিজ্ঞাপন
এ ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সর্বস্তরের এলাকাবাসী। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে কোমলমতি শিশুদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।








