শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অর্থবাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শাল্লা উপজেলা সচেতন নাগরিক একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শহীদ মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এরশাদ মিয়া, ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শফি মিয়া, শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাব্বুল হোসেন রাফি এবং ছাত্রদল নেতা সবুজ হোসেন বাবু।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। নিয়োগ বাছাই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দিয়ে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান বক্তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বক্তারা বিশেষ করে ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ডেভিল হান্ট অভিযানে আসামি হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তির স্ত্রীকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই নারী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়কের স্ত্রী বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তাঁর কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই বলে দাবি করে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, কী যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং কার সুপারিশে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া হবিবপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন বক্তারা। তাঁদের মতে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, তাঁর অগোচরে শাল্লায় বিভিন্ন অনিয়ম ঘটছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাই সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাঁরা ইউএনওকে শাল্লা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিকেল ৪টায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।








