মেয়ের পর এবার নদীতে ভেসে উঠল নিখোঁজ মায়ের মরদেহ

পূজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রলার থেকে কালিগঙ্গা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মা রিনা বেপারীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মধুরাবাদ এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল মরদেহটি উদ্ধার করে। স্বজনরা সেটি রিনা বেপারীর বলে শনাক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তার আট বছরের মেয়ে অর্পিতা বেপারী। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ট্রলার দুর্ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রিনা। তিন দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বুধবার সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর স্ত্রী।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেলবোঝাই একটি ট্রলার অতিরিক্ত ভারে একদিকে কাত হয়ে পড়ে। এতে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। তাদের অধিকাংশ সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মা ও মেয়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সোমবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাত ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল আবার তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বুধবার সকালে রিনার মরদেহ উদ্ধার হয়।
বিজ্ঞাপন
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ জানান, দুর্ঘটনার দিন শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও গৃহবধূ নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের দেবর মরদেহটি শনাক্ত করার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, দুর্ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইজারা দেওয়া ঘাটের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা পাওয়া গেলে ঘাটের ইজারা বাতিলসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।








