Logo

সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি
২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:১৯
সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম ও সড়ক যোগাযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারও কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটি ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বিজ্ঞাপন

সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের আগের অবস্থানগুলোতে রয়েছেন। তাদের দাবি, সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চলছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সশস্ত্র সদস্যরা শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছেন। এ ছাড়া গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

সংগঠন দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাধারণ জুমচাষিরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছেন না। ফলে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষায় সশস্ত্র সদস্যদের সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। ওই দিন বিকেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ শুরু করা হয়। পরে দুর্গাপূজার কারণে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এবার সেই বিরতির পর আবারও অবরোধের ঘোষণা এল।

আগের অবরোধের সময় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও দুর্ভোগে পড়েন। পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রম ও স্থানীয় বাজারের বেচাকেনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিজ্ঞাপন

হাটের দিনেও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

পুলিশের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন।

আগের অবরোধের সময় আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় গাড়িবহর চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা গাড়িবহর আটকে দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে ১৫ অক্টোবর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। নতুন করে অবরোধের ঘোষণা আসায় পর্যটকদের যাতায়াত এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে। জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহনও কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ, স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD