Logo

১৭৭ চিকিৎসক পদের হাসপাতালে কর্মরত মাত্র ১৬ জন, ভোগান্তিতে রোগীরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৩০
১৭৭ চিকিৎসক পদের হাসপাতালে কর্মরত মাত্র ১৬ জন, ভোগান্তিতে রোগীরা
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন অন্তত ৫০০ রোগী। শয্যা না পেয়ে অনেককে থাকতে হচ্ছে ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায়। প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চিকিৎসক-নার্সের অপ্রতুলতায় বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি।

বিজ্ঞাপন

জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে গাইবান্ধা পৌর শহরসহ আশপাশের সাত উপজেলা থেকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন হাজারো মানুষ। জ্বর, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চাপে হাসপাতালের অধিকাংশ ওয়ার্ডেই দেখা দিয়েছে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড়। প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি হওয়ায় সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

১৭৭ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত ১৬ জন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের ১৭৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। অন্যদিকে, ১৪৪টি নার্সের পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ৭৮ জন। অন্যান্য পদেও রয়েছে জনবলসংকট।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালটিতে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালটেন্ট, সার্জারি, নাক-কান-গলা, অর্থো-সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু, মেডিসিন এবং চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে চিকিৎসক নেই। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। আটজন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের প্রয়োজন হলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন।

ওয়ার্ডে জায়গা নেই, মেঝে ও বারান্দায় রোগী

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের ভেতরের মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে ওয়ার্ডের ভেতরে চলাচলের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়ছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে রোগীদের অভিযোগ

পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম ফকির হাটের বাসিন্দা শিল্পী বেগম (৩০) বলেন, ‘আমি গত তিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। সকাল বেলা একবার ডাক্তার এসে প্রেসক্রিপশন করে দিয়ে যায়। সারাদিন আর খোঁজ থাকে না। নার্সকে ডাকলে তারা আসতে চায় না। বাইরে থেকে ওষুধপত্র কিনে আনতে হয়।’

বিজ্ঞাপন

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সবই যদি বাইরে থেকে কিনতে হয়, ডাক্তার-নার্স ডাকলে না আসে, তাহলে এটি সরকারি হাসপাতাল হয় কেমনে? নামটা পরিবর্তন করে ‘মরণ হাসপাতাল’ দেওয়া যায় না!”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর বাড়াইকান্তি গ্রামের কুলসুম বেগম (৪৫) শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসাতো দূরের কথা, আরও বেশি রোগী হয়েছি হাসপাতালে থেকে। ডাক্তারের কাছে রিলিজ নিয়ে রংপুরে যাব চিকিৎসার জন্য।’

রোগীর স্বজন লাভলী বেগমের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। খাবার পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগারের অবস্থাও খুব খারাপ। এ পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝড়ের ধানগড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাঈল হোসেন তাঁর তিন বছর বয়সী সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করে ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমার তিন বছর বয়সের সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করে বিপদে পড়েছি। একদিন থাকার পর সন্তান সুস্থ হওয়াতো দূরের কথা, রোগ আরও বাড়ছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।’

সীমিত জনবলেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ-উর রহমান বলেন, ‘১৭৭ জন চিকিৎসকের সেবা মাত্র ১৬ জন দিয়ে কীভাবে সম্ভব? শয্যার চেয়ে ভর্তি দ্বিগুণ রোগী। এই সামান্য জনবল দিয়ে আর কতটুকু সেবা দেওয়া সম্ভব? তারপরও প্রতিনিয়ত সাধ্যমতে চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য।’

বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে জনবল সংকট রয়েছে। এত অল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে এত লোকের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও প্রতিনিয়ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। তবে আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD